বন্দরের চোরাকারবারির গডফাদার “শাহিন”

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নিউমুরিং এমপিবি গেইট এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের কতিপয় অসাধু ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন বের হচ্ছে লাখ লাখ টাকার আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী। ২০-৩০ হাজার টাকা দিলেই অবৈধপথে বের হচ্ছে এসব পণ্য ও মালামাল— এমন অভিযোগ উঠেছে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে গিয়ে নিউমুরিং এমপিবি গেইট রেলবিট এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানিকৃতপণ্য ঝুঁপড়িতে স্তুপ করা মালামালগুলো সেখান থেকে দিনের বেলায় একটি ট্রাক থেকে শাহিনের ভ্যানগাড়ি বোঝাই করার একটি ভিডিওচিত্র । ভিডিওতে দেখা যায় সেখানে কয়েকজন লোক বন্দর থেকে অবৈধপথে বের করা আমদানিকৃত প্লাস্টিকের দানা ও প্লাস্টিকের রোল গাড়িতে বোঝাই করছে।যদিও বন্দরের সীমানা সংগ্লণ মধ্যে কোনো ধরণের পণ্য লোড আনলোড করা নিষিদ্ধ।

চোরাইপথে বের করা পণ্য ও মালামালগুলোর মধ্যে রয়েছে— কয়লা, নিষিদ্ধ পলিথিন, প্লাস্টিকের দানা, খাদ্য দ্রব্য পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঠ, লোহা, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি বিষাক্ত শিশা ও গন্ধক।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এমপিবি রেলবিট এলাকায় সক্রিয় রয়েছে এই চোরাকারবারি চক্র। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আনসার সদস্যদের ২০-৩০ হাজার টাকা দিলে বের হয়ে যাচ্ছে এসব পণ্যের চালান। ওই এলাকার শাহিনের নেতৃত্বে একুশজনের একটি সিন্ডিকেট এসব অবৈধ ব্যবসার যোগানদাতা। চক্রটি বন্দরের ভেতরের আমদানিকৃতপণ্য চোরাইপথে বের করে শাহিন ও তার সহযোগী সাহাবউদ্দিন ও তার সাঙ্গুপাঙ্গু।

অভিযুক্তরা হলেন, চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নিউমুরিং এমপিবি গেইট এলাকার শাহিন চোরাকারবারি দলের গডফাদার শাহিন ও তাঁর একুশজনের সিন্ডিকেট তারা হলেন কবির,হান্নান আনোয়ার,দেলোয়ার মোল্লা,জহির,কাসেম,মানিক,জামাই সুরুজ,সাহাবউদ্দিন,সুমন,সিরাজ,মিরাজ,জামাই দেলোয়ার,হেলাল,জামাল,লেঙ্গা ইলিয়াছ,ইলিয়াছ,হাসান নেজাম উদ্দিন,ইসমাইল । এছাড়া এই চক্রটির সঙ্গে রয়েছেন বন্দরের চোরাকারবারির হোতা মো. কবিরও।বর্তমানে কবির তিনটি মামলায় আটক হয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইপিজেড থানার এমপিবি গেইট এলাকায় রেলবিট সংলগ্ন ঝুঁপড়িতে গুদামঘর জুড়ে রেখেছে অবৈধপণ্যের বিশাল সম্রাজ্য। শুধু তাই নয়, সেখানে রেলবিট এলাকায় সড়কের অধিকাংশ জায়গাও তাঁর দখলে রেখেছেন। সেখানে একাংশে জুড়ে রেখেছে চোরাইপণ্য কাঠের স্তুপ।

অভিযোগের বিষয়ে শাহিনের কাছে জানতে তার ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করেলে মুঠোফোনের সংযোগ তিনি জানান,এবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না তিনি শুধু কাঠের ব্যবসা করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লেঃ কর্ণেল আহমেদ জুনাইদ আলম খান (পিবিজিএম)’র নিকট এবিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে আপনি আমার আফিসে এসে কথা বলেন পরে তার আফিসে গেলে তিনি ব্যস্ত আসেন বলে তার সাথে পরে যোগাযোগ করতে বলেন

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই বিষয়ে আমি কিছু জানিনা তিনি বলেন আপনি চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লেঃ কর্ণেল আহমেদ জুনাইদ আলম খান (পিবিজিএম)’র সাথে যোগাযোগ করুন।

Published by Rakib Hasan

এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক বাংলাদেশের নিউজ র্পোটাল।

2 thoughts on “বন্দরের চোরাকারবারির গডফাদার “শাহিন”

  1. Pingback: 7news

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create your website at WordPress.com
Get started
%d bloggers like this: